১৯৭১ সালে প্রতিটা মানুষ তার নিজের লালন করা চেতনাটাকে বাচানোর
জন্য যুদ্ধ করেছে, নিজের জীবনটাই দেশের নামে ফেলনা’র মতো বিসর্জন দিয়েছে।
আজ আমরা যে বাংলাদেশে বেচে আছি তার প্রতিটা ধুলিকনা পর্যন্ত তাদের রক্তের
গন্ধ ধারন করে আছে। আর আজ স্বাধীনতার ৪০ বছর হতে চলল, প্রতি বছর ১৬
ডিসেম্বর, ২১শে ফেব্রুয়ারী, ২৬শে মার্চ আশে আর যায়, আমরা ওই দিনগুলোতে খুব
কিছুক্ষন স্বাধীনতা স্বাধীনতা বলে চিতকার চেচামেচি কনসার্ট হই-হুল্লোড় করে
পরের দিন সব ভুলে যাই। আমরা হয়তো মুক্তিযুদ্ধ, আন্দোলন এগুলো কাছ থেকে
দেখার সুযোগ পাইনি, কিন্তু বিষয় গুলি অনুভব করার সুযোগ এখনও আছে।
genocidebangladesh এর ওয়েবপেজ এ দেখলাম আমার বয়সী ছাত্রদের হল থেকে বের
করে এনে গুলি করে মেরে ফেলল, তারপর আবার বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে দেখল প্রান আছে
কিনা। ওই ছেলেগুলো’র বয়স আমার বর্তমান বয়সের থেকে এক দিনও বেশি হবে না। ওই
ছেলেটার জায়গায় আমি/আমরাও তো থাকতে পারতাম। আবার পড়েছি যুদ্ধের সময়ও আমার
থেকে ৪ বছরের ছোট একটা ছেলে বুকে মাইন বেধে পাকিস্তানি সৈন্যদের দিকে ছুটে
গিয়েছিলো। এত সাহস তারা কিভাবে পেয়েছিলো? মানুষগুলি যখন মরিয়া, বেপরোয়া হয়ে
গিয়ছিলো তখন বুঝেছিল, ভয় বলে আসলে কিছু নাই! আমার বয়সী ছেলেরা প্ল্যান করে
২১শে ফেব্রুয়ারী এনেছিলো, তারা নিজেদের মুখের ভাষা বিসর্জন দিতে চায়নি,
তারা ১৬ই ডিসেম্বর এনেছিল, তারা নিজের চেতনা বিসর্জন দিতে চায়নি। শুধুমাত্র
এই বোধটুকু’র কাছে তাদের জীবনের দামও তুচ্ছ হয়ে গিয়েছিলো। আর আমরা, সেই
ডিসেম্বর মাসে নিজের জাতীয়তাবোধ নালা’র জলে ভাসিয়ে দিয়ে একটা বিদেশী
‘পেশাদার আনন্দদানকারী’ (entertainer) কে সুযোগ করে দিলাম, এত দামে কেনা
আমার দেশের মাটিতে তার নিজের দেশ আর নিজের ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করে যাওয়ার
জন্য। এই লজ্জা কই রাখি? ১৬ বছর বয়সী বুকে মাইন বাধা সেই ছেলে উপর থেকে এই
কান্ড দেখে যদি ভাবে যে তার জীবন সে এই দেশের জন্য কেন দিয়েছিল, তার দায়ভার
কি আমরা নিতে পারব? আমাদের কি তাদের মত এত মানসিক শক্তি আছে? মনে হয় আছে।
আমাদের শুধু ভেতর থেকে সেটাকে টেনে বের করে আনতে হবে।
সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।
চমৎকার ভাবনা তোর। পড়ি আর মুগ্ধ হই। :)
ReplyDeleteচালিয়ে যা, থামাস নে। সবাই এরকম লিখতে পারেনা।